চিত্র ১
ব্যবসায়ী পরিবার। বাবা পানের টুকরোও দাঁতে কাটেন না। মা পূজার্চনা নিয়ে থাকেন। একমাত্র সন্তান। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশুনো। আচমকাই কখন যেন নিজের ছেলের আচরণ বদলে যেতে লাগলো। কথায় কথায় বিরক্তি, অকারণে বাবা মার ওপর রাগ। মানুষের সঙ্গে মেলামেশায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ছেলে যে ড্রাগের নেশায় আসক্ত তা বুঝতে সময় লেগেছিল দম্পতির। যখন বুঝতে পেরেছেন তখন অনেকটাই দেরি। কার জন্য ব্যবসা করবেন, নিয়ম মেনে পুজো করে উপোস করে নিরামিষ খেয়ে কি হল মায়ের। লোক লজ্জায় আর দশ জনকে মনের দুঃখের কথাও বলতে পারে না দম্পতি। ছেলে রিহ্যাবে কিছু মাস থেকে বাড়ি ফেরে আবার নেশা করে। আবার রিহ্যাবে যায় আবার ফিরে আসে। একটা সম্পন্ন পরিবার এভাবেই শেষ হয়ে গেছে।
চিত্র ২
বাবা টোটো চালক, মা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খিচুড়ি রান্না করেন। একমাত্র ছেলে বিয়ে করেছে। ছোট দুটো বাচ্চাও আছে তার। কিন্তু কাজকর্ম সব ফেলে দিনের বেলা পড়ে পড়ে ঘুমায় যুবক ছেলে। সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে আচমকা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। ফেরে ঘণ্টাখানেক পরে। তারপর সারারাত মা, বাবা, বউএর ওপর অত্যাচার, গালাগালি, নির্যাতন চলতে থাকে। এই নেশার স্থায়িত্ব মদের নেশার থেকে বহুগুণ বেশি। সেটা বুঝতে পারে পরিবার। তবে ছেলে যে ব্রাউন সুগার নিচ্ছে তা বুঝতে বহুদিন লেগে যায়। আত্মীয় প্রতিবেশী সকলের থেকে টাকা ধার করে শিলিগুড়ির রিহ্যাবে পাঠানো হয় ছেলেকে। টাকার অভাবে ফেরত আনতে হয় কয়েক মাস বাদেই। সমস্যা আজও মেটে নি। বলা ভালো হাল ছেড়ে দিয়েছে পরিবার।
ডেনড্রাইট আঠার গন্ধের নেশা আজ সেকেলে হয়ে গিয়েছে। বাতিল হয়েছে করেক্স, ফেনসিডিলের মতন সিরাপ খাওয়ার প্রবণতাও। কলমের কালি মোছার ইরেজার এর থেকে নেশার উপাদান সংগ্রহ এখন অতীত।
সবকিছু ছাপিয়ে সর-গরমে চলছে ব্রাউন সুগারের ব্যবসা। ওদলাবাড়ি, মালবাজার, চালসা জুড়ে এখন ব্রাউন সুগারের দৌরাত্ম্য চরমে। মংপু কালিঝোরা সেবক এর পথে সেবক এর পথে নেপাল থেকে আসছে ব্রাউন সুগার। হ্যান্ডেলার দের হাত ধরে পৌঁছে যাচ্ছে ছোট ছোট বিক্রেতাদের কাছে। যারা আগে গাঁজা বিক্রি করতেন তারাই ব্রাউন সুগার বিক্রি শুরু করেছেন। শোনা যায় অর্থের বিনিময়ে অনেক চেয়ার কেনা হয়ে গিয়েছে এই চক্রের।
চালসা স্কুল পাড়া, মালবাজার কলোনি মাঠ লাগোয়া এলাকা ও পানোয়ার বস্তি ওদলাবাড়ি চিল কলোনি ও ঘিষ বস্তি। কোথায় কোথায় কারা বিক্রি করছেন তার খবর অনেকেই জানেন। অনেকে ভয়ে, অনেকে ভক্তিতে চুপ। আমরা চুপ থাকবো না। কোনদিন সুযোগ আসলে উচিত শিক্ষা দিতেও ভুলবো না।
